Friday, 2 December 2011


‎............।জেলা হাসপাতাল

..........
মা ভেহেস্তে যাচ্ছেন সতের হুর টানা রথে
ভেহেস্তে শীতল জামরুল গাছের নিছে বসে ঠাণ্ডা পানি
পান করছেন মা
নবীর পায়ের কাছে বসে মা শুনছেন
ইতিকথা ইসলামের ,
লাল টুকটুকে মায়ের মুখ
ভেহেস্তের চির বসন্তে আর লাল হয়েছে এই কদিনে
মা পাচওাক্ত নামাজ পরছেন নিয়মিত
মা জাকাত পেয়েছেন হাসানের থেকে,
ক'দিন আগে বর্ধমানের জেলা হাস্পাতালের মেঝেতে
পরেছিল,
শরীর প্রতি ঘণ্টায় একটু একটু করে ক্ষয়ে
যাচ্ছিলো,
যে হাত দিয়ে দোয়া ছাড়া অন্য কিছু বেরত না
সেই হাত
চুপ করে পরেছিল শেষ সাতদিন ,
মা গল্প করত......
ভেহেস্তের বাগানে মিষ্টি খেজুর
নিষ্পাপী রা মহানবীর সাথে লুকোচুরির
অনুমতি পেত...
মা পেয়েছেন ভেহেস্তের রুপালি দরজার চাবি ,
তবু ও মা জেনে গেলেন না
আর একটু সেবা পেলে
এই বর্ধমান জেলা হাসপাতালে
আমরা দুজনে
ভেহেস্তে নামাতাম......

অধিকার


‎...........
এই অধিকারের একটাই নাম
ভালোবাসা
এই বিশ্বাসের একটাই নাম
ঈশ্বর
এই কবিতাই একটাই কথাবলে
মানুষের
এই জীবনের পরমায়ু
বিশ্বাস
এই জীবনের রসদ
তুমি
এই জীবনের একটাই ডাক
মা
এই জীবনের ধ্রুব সত্য
সূর্য
এই জীবনের একটাই অঙ্গীকার
সত্য অন্বেষণ
এই জীবনের মিছিলে
মৃত মুখের সারি
এই জীবনের মৃত্যু
শরীরের
এই জীবনের চরম সুখ
রতি
এই জীবনের রহস্য
মনে
এই জীবনের বন্ধুত্ব
অহংকার
এই জীবনের মানে
কবিতাই

‎............... দিকভ্রস্থ ................।
সূর্য নিমন্ত্রন
ছায়ার অপঘাতে মিত্যু নব দূর্বাদল শ্যাম
অনুরা নদীতীর ভ্যাপা চাঁদ
সাপের ফনায় মৃত্যু হাতছানি , বিবাগী মেঠো সুর
স্রোতের অভিঘাতে পাড়ের পরজাক্রমে
দিকভ্রস্থ গতি ,
বিক্রমে একুরিয়ামের মাছের ভেঙ্গেফেলা স্বপ্ন
জেগে রয় পৌষের ও আগুনের উষ্ণতায়
জীবনকে ভালোবাসে বলে...

যেসব বক্ররেখা
সীমান্ত ছারিয়েছে সক্রোধে
বুলেট আর বনেটের শীতল স্পর্শ ছোঁয়া জীবন মায়া
তাকে পারেনি আনতে বশে
ঢের জন্ম নষ্ট হয়ে গেছে অতীতে
ঢের জীবন দীপ পেয়েছে জীয়ন কাঠির মুগ্ধ ছোঁয়া ,
বক্ররেখা , সীমান্ত পাচিল ,
উর্দির আড়ালেও তো সেই হাসি , সেও কোন এক
বক্ররেখা সুদূর সন্ধানী ,

আরও একটু সুস্থির ভাবে
বীজের গভীরতা থেকে
যেসব রক্ত জন্ম বাড়ছে ,
মাটির আবেদনে পরবে ঝোরে , সকলের অগোচরে
পাখির পায়ে বেধে দেবে শান্তি নিশান
কাঁটাতারের গণ্ডি
রাইফেলেরের সুচারু নল , সীমান্ত লং মার্চ
মর্টারের অগজর মুখ
পেছনে ফেলে সীমান্ত ভাঙার জয়গান
গাইবে পাখিরা দল বেধে.........


কোন স্পর্শ পেলে শিত ঘুম ভাঙ্গে রোদের
কোন উষ্ণতায় জঠরে বেরে ওঠা জন্ম
বেঁছে থাকার চিৎকার,
কোন বিকালে গন্ধ গায়ে মেখে
জীবন বলেছিল তুই ভাল থাকিস ,
অনুচ্চছেদে , পুংতি তে
ভোগ করা সময়ের রন্ধ্রে
কাল মাস জীবনের
কোন সে কথা বলে যায় ঘড়ি ধরে ,

আআআ


‎....................অন্যরকম ............

ঘুন পোকা আক্রমন কাঠে
শ্যাওলা জমাটবদ্ধ কল পার
নিতম্ব স্পর্শ আবেদনের
কৃষ্ণ চুরা সাখার ফাঁকে রঙ ডুবছে দেখ ?

নিখাধ কালোয় গড়া সুঠাম দেহ
হাতের পেশীতে শূয়রের তেজ
বন্যা স্পর্শ করতে পারেনি যে সব কুরে ঘর
আগামীর ভরে ভীত কি জানি কি হয় ?

অকালে ঝরে গেল একটা প্রান
নিয়তির পরিহাসে কাঁদে সাজিরবাগ শ্মশান
যে জন্ম ছিল সদা হাস্য মুখ
নব বধুর সিঁদুর নেই মনে কার সুখ ?

নর্তকী নৃত্য বাবু হারেমে
বাবু চল্লেন ধুতি নাগরা পাই
যে রাতে ছেড়ে গেলো আধার করে মন
প্রিয়তমা মুখটাকে এত তারাতারি ভুলে যাওয়া যাই ?

ভুমি ক্ষয়ে বৃক্ষ রপন
অতি শাসনে খোলে প্রেমের বাধন
পৌষের রাতটা একটু ছোট হলে
কি বা এসে যেত শিতের তাতে ?/


‎..................।। রহস্য ............।।
অদ্ভুত ফারটিলাইজারের গন্ধে ময় ময় পুকুরপাড়
সাদা হাঁসের ডানা পেয়েছে রৌদ্রের বিজ্ঞাপনের
অধিকার......
আকস্মত গ্রেহস্ত সুখ ক্ষয়ে যাওয়া মোমবাতির নিস্তব্ধতায়
মৃতপ্রায় , অধিকারে জন্ম নেওয়া কাঠ ঠোকরার ঠোটে
চিরন্তন শাশ্বত বিশ্বাস ,
ভগ্নপ্রায় চিলেকোঠা ,রঙ চটা জীর্ণ দরজা হাতল
এখানেই বাল্য বন্ধি আছে সাতাস বছর,
পশ্চিমের বারান্দায়
শিতের রোধ নাচে সুর তুলে
সুরজারং মাখিয়েছে সামনের শিমুলের গায় ,
ছিনে জোকের সন্ধানী দৃষ্টিতে মিলন পিয়াসা জীবন ও
একদলা রক্ত
সজীব কুয়াশার প্রলেপ ঢেকে গায়ে
জলের অনুচ্ছেদে ভালবাসার প্রাপ্তিস্বীকার .........
অন্ধ শিত ঘুম ছেড়ে ...... সরোষে ডানা ঝাপটিয়ে
গাংচিল উষ্ণতা খোঁজে বয়তরনি তীরে ,
গুপ্ত ইতিকথা ইতিহাসের , ভগ্ন মন্দির চুড়ো ,
"দোহা " শুধু বানী নয়
যে পেয়েছে তার অধিকার সেই জেনেছে জীবনের মহিমায় !
কম্বলে শিত লাগা ভয়াল পৌষ দুপায়ে ছুরে ফেলে
তিমির অন্ধকারে
একবার প্রানভরে প্রশ্বাস - নিশ্বাস
বুকের হাপর টানা কমলো বোধহয় ... কোন সে রোগ এ , জীবনের ,
শুধু শরীর নয় মনের অভ্যন্তরস্থ
গুপ্ত স্থান থেকে উঠে আসে হাহাকার ...বলে যায় আনমনে
প্রেম ই সব টুকুনয় ,
অতুলনীয় পারদর্শীটায় সৌভাগ্যবান কিছু জানোয়ার
অন্য প্রজাতিকে করেছে নিয়মের শিকার
হরিনের পা শেষবার পরিক্রমণ ... পরেছে চক্রব্যূহে ,
সুনিপুন হাতে মরন ফাঁদ পাতা , রসদ আটকে ধাওয়া করা
নিয়মে , এক ই পথ এক ই গতি এক ই আবেগে
এক ই নিশ্চিত মৃত্যু ,
এই বিশ্বাসে নেই কোন মুক্তি , সৃষ্টি নিয়ম বৃদ্ধাঙ্গুলের
ব্যাঙ্গে আরক্ত হয়ে ও, রাগ ,অভিমান ,আক্রোশে
এক ই তালে বইছে
বিবর্তনের এটাই কি
লুকানো অনন্ত সত্য !
পুত্র , মুত্র , বীর্য , সৃষ্টি আদিরস , এক ই অঙ্গে ত্রিধারা ?
যৌবন জ্বালিয়ে যনিতে
বার বার মন ঘসা......।।

বি


‎..................।। বিচ্যুতি ......।।
ধান শোখানো যুবতী রোদ্দুর বিচ্চুরনে জ্বলন ,দহন ,
ছায় হয়ে পরে থাকে মন ভাদ্রের উদ্দাম বিকেলে ,
কালো বিনুনিতে সর্পিল রেখা নিয়েছে আষাঢ়ের
দশ মাসের পোয়াতি নদী
কপোল উপত্যকায় মাথা দোলায় পাইনের ঝার
....................................মাথা দোলায় প্রেমের নিমন্ত্রনে ,
স্তন বৃন্তে মধুমাস
অনুচ্চারিত ভাষা চোখের চিরন্ত্রন নিয়মে বলেযায় কথা
অপরপারের মন
নিয়ন্ত্রন করতে পারলে শরীর সে সুনতে ও পায় ,
রশি ধরে টানাটানি , প্রেম শূন্য
রশির ঠিক মাঝখানে
পাক্কা খেলোয়াড় জানেন কতোটা তান্তে পারলে
ধরে রাখাযায় প্রেম
.......................................অনন্ত সময় ধরে ,

মাঘ শেষ
ফিঙের ডানায় বসন্তের আগমনী সঙ্কতেক
পরু যুদ্ধ ক্ষেত্রে মুখচাপা অন্ধকারে একা
দুঃখের রঙ স্পষ্ট নিকাষ কালো
জয়-পরাজয় মৃত শরীরে শকুনের ঠোটে
ইতিহাস নির্দেশ দেয় ,
তবু যদি জোর গলায় চিৎকার করে বলা যায় যদি
কা করেছি বেশ করেছি
সম্মানের লড়াই লড়েছি আমি
কোন কালে সুচাগ্র ভুমি বিনা যুদ্ধে ছেড়েছে কোন ভাই ?
আমি ও তো রথিন
সত্য প্রেমের সাথে
নিত্য উপবাসে , অনাহারে , নিয়মিত
সিন্নি আর মাথা ঠোকা চণ্ডী মণ্ডপে
রথিন
এই প্রেম শুধু আমার
এই প্রেম বাঁচানোর নেই কি তোমার দারকার ?